

সিএনজি ওয়ার্কশপের আড়ালে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সিএনজি অটোরিকশা ওয়ার্কশপের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসা দেশীয় অস্ত্র তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দেশীয় পেনগানসহ পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, হাটহাজারীতে দেশীয় অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নজরদারি ও তথ্য যাচাই শুরু করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএমের নির্দেশনায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজের নেতৃত্বে এসআই ফখরুল ইসলাম, এসআই আশিকুর রহমান ও এসআই নাজমুল ইসলামসহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা মির্জাপুর ইউনিয়নের মনসুরাবাদ কলোনি এলাকায় অভিযান চালান।
অভিযানকালে মো. জামাল হোসেন ওরফে জামাল মিস্ত্রি (৪৪) এবং মো. কবির (৪৭) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে একটি অত্যাধুনিক পেনগান, চারটি দেশীয় পিস্তল, ১৮টি পেনগানের গুলি এবং দুটি পিস্তলের বুলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, হাটহাজারীর সরকারহাট বাজারে ওসমানের সিএনজি অটোরিকশা ওয়ার্কশপের আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হতো। পরে এসব অস্ত্র বিভিন্ন স্থানে বিক্রির উদ্দেশ্যে সরবরাহ করা হতো।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সরকারহাট বাজারে অবস্থিত ওই ওয়ার্কশপে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়। এ সময় অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
পুলিশের এ অভিযানের মাধ্যমে হাটহাজারীতে অবৈধ অস্ত্র তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অস্ত্র তৈরি, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় পলাতক ওসমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ, অস্ত্রের উৎস শনাক্ত ও নির্মূল এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
