লাকসামে নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরাণীকে নিয়ে বহুমাত্রিক মানবিক ঐশ্বর্য সেমিনার ও কনটেন্ট নির্মাণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

নারী শিক্ষা, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান রাখা উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরাণীর জীবন, কর্ম ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরার লক্ষ্যে কুমিল্লার লাকসামে অনুষ্ঠিত হয়েছে “নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরাণী : বহুমাত্রিক মানবিক ঐশ্বর্য” শীর্ষক সেমিনার এবং কনটেন্ট নির্মাণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

শুক্রবার বিকেলে লাকসামের ঐতিহাসিক নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরাণীর জমিদার বাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাদেকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক রাশেদা আক্তার। সভাপতিত্ব করেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা।

অনুষ্ঠানে লাকসাম উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে বক্তারা নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরাণীর শিক্ষা বিস্তার, নারী জাগরণ, সমাজ সংস্কার এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, নবাব ফয়েজুন্নেছা শুধু একটি নাম নয়, বরং নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে নবাব ফয়েজুন্নেছার জীবনাদর্শ ও অবদান তুলে ধরতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কনটেন্ট নির্মাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে তরুণ কনটেন্ট নির্মাতাদের তাঁর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কর্মময় জীবন নিয়ে আরও গবেষণাভিত্তিক ও সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরির আহ্বান জানানো হয়।


সেমিনার শেষে নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরাণীর জীবন ও কর্মভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে প্রথম স্থান অর্জন করেন জাহিদ শান্ত, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন সাইফুল ইসলাম এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন রিয়াদ। পরে অতিথিবৃন্দ তাদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন।

তবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে ঘিরে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাদের অভিযোগ, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী কনটেন্টগুলো অনুষ্ঠানে প্রদর্শনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। কোন কনটেন্টের ভিত্তিতে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে, সে বিষয়েও উপস্থিত দর্শকদের সামনে কোনো উপস্থাপনা করা হয়নি। এছাড়া অনুষ্ঠানস্থলে প্রজেক্টর বা ডিজিটাল প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও ছিল না বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এমনকি দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী একজন প্রতিযোগীর পুরস্কার অন্য একজন গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য আবুল কালাম নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরাণীর স্মৃতিবিজড়িত জমিদার বাড়ি প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। এ সময় তিনি নবাব ফয়েজুন্নেছার স্মৃতি সংরক্ষণ, ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর উন্নয়ন এবং তাঁর জীবন ও কর্মকে জাতীয় পর্যায়ে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানটি নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরাণীর ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে তাঁর আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উপস্থিত সুধীজনের প্রশংসা অর্জন করে।

Leave a Reply