কুমিল্লায় মাদক বিরোধী র্র্যালি ও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত।

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

“মাদক নয়, সুস্থ জীবন—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার”—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, কুমিল্লা এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মো. মনিরুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সম্মানিত জেলা প্রশাসকসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ। মাদকের কারণে যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়, অপরাধপ্রবণতা এবং সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতা অপরিহার্য।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকারের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে তাদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদক নির্মূল করতে হলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সবাই মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

Leave a Reply