

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লায় পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে। র্যাব বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্য তারা।
র্যাব-১১ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন ২০২৬ দুপুরে র্যাব-১১-এর সিপিসি-২-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার টিক্কারচর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মাহমুদুল হাসান জিদান (২৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত মাদক গাজা
এরপর ১ জুলাই ২০২৬ সকালে একই ইউনিটের আরেকটি বিশেষ আভিযানিক দল কোতোয়ালি মডেল থানার তেলীকোনা এলাকায় পৃথক অভিযান চালায়। এ অভিযানে মো. মনির হোসেন (৩৭) নামে আরেক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে ৩০ কেজি গাঁজা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মাহমুদুল হাসান জিদান কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার টিক্কারচর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে এবং মো. মনির হোসেন একই থানার রাঙ্গুড়ি গ্রামের শাহ আলমের ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে আসছিল বলে তথ্য দিয়েছে। তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল বলে জানিয়েছে র্যাব। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
র্যাব-১১ আরও জানায়, মাদক নির্মূলে তাদের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবেই এ দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সমাজকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, তথ্য সংগ্রহ এবং নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
র্যাব-১১ জানায়, ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে অদ্যাবধি তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে চাঞ্চল্যকর অপরাধী ৪৪০ জন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত চারজন শীর্ষ সন্ত্রাসী, ১৫ জন আরসা সদস্য, দুইজন জঙ্গি, ২৪৭ জন হত্যা মামলার আসামি, ১৪৯ জন ধর্ষণ মামলার আসামি এবং ৫৮ জন অস্ত্র মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ১৮৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১ হাজার ৫৫৪ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৭৫০ জনের বেশি মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, একই সময়ে ১৩৬ জন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার এবং ১৬৭ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১৫৩ জন ছিনতাইকারী ও ডাকাত, চারজন দস্যুতা মামলার আসামি, ১৩ জন অনলাইন জুয়াড়ি, ৪০ জন জেল পলাতক, ১৯ জন প্রতারণা মামলার আসামিসহ প্রায় ১ হাজার ৫০ জন অন্যান্য অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। র্যাবের দাবি, অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
