
স্টাফ রিপোর্টারঃ
পেশাজীবী ও সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের দায়ের করা একাধিক মামলা ও অভিযোগকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংঘবদ্ধ নারী-পুরুষ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অপহরণের চেষ্টা, সাইবার বুলিং, মানহানি, মিথ্যা পরিচয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় সাধারণ জনগণ প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র কর্তৃক দায়ের করা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার এফআইআর/জি আর-৪১ (৮৫০)/২৪, তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২৪, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন আমলযোগ্য অপরাধের মামলায় অভিযুক্তদের সহযোগী হিসেবে অজ্ঞাতনামা চারজনকে পুলিশ তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে একই চক্রের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় এফআইআর/জি আর-৫১ (৮১২)/২৫, তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২৫, দস্যুতা সংক্রান্ত আরেকটি সরকার পরিচালিত মামলা দায়ের হয়। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে মিথ্যা ওয়ারেন্ট দেখিয়ে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপহরণের চেষ্টা চালায়। এমনকি মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের পরিকল্পনাও করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। তবে স্থানীয় জনতার প্রতিরোধের মুখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
এছাড়াও সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রকে সামাজিক ও ধর্মীয় পরিচয় বিকৃত করে অপপ্রচার, সাইবার বুলিং, ফেসবুক আইডি ক্লোনিং, মোবাইল নম্বর হ্যাকিং, মানহানি এবং তথ্য বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এ একটি মানহানি ও বিভিন্ন আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং সিআর-৬১৫/২৫, তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২৬। আদালত অভিযোগ, জবানবন্দি ও দাখিলকৃত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩৮৫/৩৬৫/৪২০/৫০০/৫১১/৩৭৯/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় মামলা রেকর্ডভুক্ত করে সরাসরি তদন্তের নির্দেশ দেন।
মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনাগুলোর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কখনো ছিনতাই, কখনো সাইবার অপরাধ, কখনো প্রশাসনের ভুয়া পরিচয়ে হয়রানি, আবার কখনো হত্যাচেষ্টার অভিযোগ—একটির পর একটি ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশাসন আন্তরিকভাবে তদন্ত চালালেও অপরাধীদের নেপথ্যে কারা রয়েছে, সেটি গভীরভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চলমান অপরাধের উৎস শনাক্ত করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের দায়ের করা জি আর মামলা, জিডি ও লিখিত অভিযোগসমূহ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, “অভিযুক্তরা একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়ায় আত্মগোপনে রয়েছে এবং নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করছে। এছাড়া তার সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ আদালতের অনুমোদনক্রমে তদন্তাধীন রয়েছে।”
ওসি আরও জানান, সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র ও তার পরিবারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

