লাকসামে ফয়েজুন্নেছা কলেজের ওয়াকফ ও গেজেটভুক্ত জমি দখলের অভিযোগ, বাউন্ডারি নির্মাণে বাধা

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার ঐতিহাসিক নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা ওয়াকফ সম্পত্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ হিসেবে সরকারি গেজেটভুক্ত জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে থাকা জমি দখল করে প্লট আকারে ভাগ করে বিক্রির পাঁয়তারা করছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কলেজ ক্যাম্পাসের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণকাজে একটি প্রভাবশালী মহল বাধা দেয়। এ সময় তারা জোরপূর্বক বালু ফেলে কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অবস্থিত আরএস ২২২২ দাগের প্রায় ৭১ শতাংশ জায়গা প্লট আকারে ভাগ করে বিক্রির প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কলেজের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত ওই ৭১ শতাংশ জায়গা ওয়াকফ এস্টেটের অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে জায়গাটি প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ হিসেবে সরকারি গেজেটভুক্ত বলেও দাবি করা হচ্ছে। কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এ জমি বেদখল হয়ে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের নতুন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের জন্য ক্যাম্পাসের জমি সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু একের পর এক জমি বেদখল হওয়ার অভিযোগে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা, পরিবেশ ও ভাবমূর্তি হুমকির মুখে পড়ছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ওয়াকফ প্রশাসন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর উদাসীনতা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবের সুযোগ নিচ্ছে দখলদার চক্র।

ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, উপমহাদেশের একমাত্র নারী নবাব হিসেবে পরিচিত নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য প্রায় ২৯৭ একর জমি ওয়াকফ রাহে লিল্লাহ করে দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সময়ের ব্যবধানে এসব সম্পত্তির বড় একটি অংশ বিভিন্ন উপায়ে হাতবদল হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওয়াকফকৃত জমির মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৯০ একর জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দখলে বা হাতবদল হয়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসের পোস্ট অফিসসংলগ্ন ২২১৬ দাগের ১৪ শতক জমিও বেদখলের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রস্তুত করা একটি তদন্ত প্রতিবেদনে ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি নিয়ে নানা অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, একটি চক্র জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ওয়াকফ এস্টেটের বিভিন্ন সম্পত্তি নিজেদের নামে ত্রুটিপূর্ণ বিএস খতিয়ান সৃজন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে এসব কাগজপত্রকে ভিত্তি করে জমিগুলো অবৈধভাবে দখল এবং উচ্চমূল্যে বেচাকেনার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় ঐতিহাসিক নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের ক্যাম্পাস, ওয়াকফ সম্পত্তি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল।

তাদের দাবি, বিতর্কিত জমিগুলোর প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে সরকারি রেকর্ড সংরক্ষণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের স্বার্থে কলেজ ক্যাম্পাসের জমি সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রশ্ন ঐতিহাসিক নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর জনকল্যাণে দান করা ওয়াকফ সম্পত্তি ও সরকারি গেজেটভুক্ত জমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, নাকি ভূমিদস্যুদের দখল প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে

Leave a Reply