

আচরণবিধি অমান্য করলে ৬ মাসের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুনভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি মিছিল, শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে নতুন আচরণবিধি সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া বিধিমালা ভঙ্গের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ **৬ মাসের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন আচরণবিধির অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো নির্বাচনি পোস্টার নিষিদ্ধ করা। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি প্রচারণার জন্য পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না।
ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী লাগানোর ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গেজেট আকারে ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো ধরনের মিছিল করা যাবে না।
ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারণায় হেলিকপ্টার কিংবা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে প্রচারণা শুরুর আগে কোন কোন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার জন্য ব্যয় হওয়া অর্থও নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।
ডিজিটাল প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার ঠেকাতেও নতুন বিধিমালায় বিশেষ বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনি পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন কোনো কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিশেষ করে এআই ব্যবহার করে ভুয়া, বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ ছবি, ভিডিও কিংবা অন্যান্য কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য কোনো ধরনের যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহার করা যাবে না।
এ ছাড়া নির্বাচনি প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন এবং মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট আচরণবিধি ভঙ্গ করলে কিংবা ভঙ্গের চেষ্টা করছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
তদন্তে গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতাও বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
এ ছাড়া নির্বাচনি ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
নতুন এ আচরণবিধির মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও সুশৃঙ্খল, ব্যয় নিয়ন্ত্রিত ও প্রযুক্তিগত অপব্যবহারমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
