

ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান, শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস এমপি আবুল কালামের
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা এবং লাকসাম পৌরসভা এলাকার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, সম্মাননা, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি দিতে আয়োজিত এ লাকসাম উপজেলায় ২০৬ জন এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ৪৭ জন সহ মোট ২৫৩ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লাকসাম পৌরসভা অডিটোরিয়াম কক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান(স্কুল, মাদ্রাসা) থেকে জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য, শিল্প মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবুল কালাম এমপি বলেন, লাকসাম-মনোহরগঞ্জের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে, যেকোনো শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পড়াশোনা করে জিপিএ-৫ অর্জন করে এলে তাদের পাশে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা থাকবে আমার পক্ষ থেকে।
তিনি বলেন, একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু রাস্তা-ঘাট বা অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষিত ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলাই একটি এলাকার প্রকৃত উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের উৎসাহিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির কর্তব্য।
তিনি আরও বলেন, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ভালো ফলাফল অর্জন করছে-এটি পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২৫৩ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট, নগদ অর্থ পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা সম্মাননা গ্রহণের সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাদের অনেকেই ভবিষ্যতে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রশাসন, আইন, গবেষণা ও অন্যান্য পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে দেশ ও মানুষের সেবায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাকসাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলন চাকমা, লাকসাম পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক আক্তার হোসেন, লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলি, মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ, মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস পাটোয়ারী, লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মজির আহমেদ, লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাদল, মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সরোয়ার জাহান ভূইয়া দোলন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব শাহ সুলতান, লাকসাম উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ডা. নুর উল্লাহ রায়হান, লাকসাম উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবুল হাশেম মানু, লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন মশু, মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুল মতিন এবং বিএন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন হেলাল হোসেনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কৃতী শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, নিজেদের অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে এমন আয়োজন তাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং উচ্চশিক্ষায় মনোযোগী হতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা দেওয়া হলে অন্য শিক্ষার্থীরাও লেখাপড়ায় আরও মনোযোগী ও উৎসাহিত হবে। এর মাধ্যমে এলাকায় শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক প্রতিযোগিতা ও আগ্রহ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা । সভাপতির বক্তব্যে তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতেও তাদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে দুপুরে আগত অতিথি, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে পুরো আয়োজনটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সংবর্ধনা পর্ব শেষে আয়োজিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কুমিল্লা, লাকসামকে নিয়ে বিভিন্ন গান পরিবেশনা করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন উপস্থিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও অতিথিরা।
শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের আয়োজন লাকসাম ও মনোহরগঞ্জের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে আরও ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
