

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির (সাবেক)মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩৪৩টি প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

শপথ নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হলেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার পর এবার তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলেন।
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ১৯৯১ সালের পর এটি দেশের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। ভোটগ্রহণ শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
রাষ্ট্রপতির শপথকে ঘিরে বঙ্গভবনে ছিল আনুষ্ঠানিক পরিবেশ। নির্ধারিত সময়ে দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথবাক্য পাঠ শেষে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দলের নীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর সামনে এখন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার বড় দায়িত্ব রয়েছে।
নতুন রাষ্ট্রপতির শপথের মধ্য দিয়ে দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এলো। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনের বিষয়টি এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
