

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে আলোচিত ‘টিম RAW’ ও ‘Crime Setup’ নামের দুটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে থাকা চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জেলা পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।
জেলা পুলিশ জানায়, কুমিল্লায় সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান পিপিএমের নির্দেশনায় গত ১০ দিন ধরে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি কিশোরকে সন্দেহজনক হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি এমন কিশোরদের পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা পুলিশের ভাষ্য, চলমান অভিযানের কারণে কিশোর গ্যাংয়ের অনেক সদস্য আত্মগোপনে চলে যায়। এরই মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলা ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ‘টিম RAW’ ও ‘Crime Setup’-এর চারজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—‘টিম RAW’-এর সদস্য ইমরান হোসেন রতন (১৯)। তিনি মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ মোট নয়টি মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া একই গ্যাংয়ের সাইফুল ইসলাম (২০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আক্তার হোসেন মোল্লার ছেলে। পুলিশের দাবি, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে ‘Crime Setup’ নামের গ্যাংয়ের নেতৃত্বে থাকা বলে পুলিশ যাদের উল্লেখ করেছে, তাদের মধ্যে মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) রয়েছেন। তিনি আব্দুল করিমের ছেলে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে পূর্বে একটি মামলা রয়েছে।
একই গ্যাংয়ের রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪)কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নাসির উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধেও একটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে মাদক সেবন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মোটরসাইকেল মহড়া ও সহিংসতাসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এবং কিশোরদের অপরাধে জড়ানোর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো গ্যাং বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অভিভাবকদেরও সন্তানদের প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্তানরা কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে এবং কী ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।
