১৯ দিনের ছুটিতে চেয়ারম্যানের বিদেশ গমন

পেরুল দক্ষিণে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ৬ নম্বর পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুল্লাহ রুবাই ১৯ দিনের ছুটিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাহেব উল্লাহকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এ দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া, লিখিত আদেশ না থাকা এবং সাহেব উল্লাহর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুল্লাহ রুবাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটির আবেদন করেন। গত ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে তিনি ছুটিতে রয়েছেন। তাঁর ছুটির সময়ে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ সাহেব উল্লাহকে পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালনের জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

খন্দকার সাইফুল্লাহ রুবাই ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও সম্পাদক সাহেব উল্লাহকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাহেব উল্লাহ অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য তিনি কাউকে কোনো অর্থ দেননি।

সাহেব উল্লাহ পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া নাফিজা কামালের নির্দেশে পেরুল আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার জন্য তাঁকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও লালমাই ছাত্রলীগের অর্গানাইজার মো. ইলিয়াস হোসেন সবুজের আপন চাচা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বিএনপি কর্মী অভিযোগ করে বলেন, খন্দকার সাইফুল্লাহ রুবাই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী লোটাস কামালের সমর্থনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর ‘বিএনপি-জামায়াতকে প্রতিহত করার ঘোষণা’র ভিডিও এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ওই বিএনপি কর্মীর অভিযোগ, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ আমলের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের প্রভাব এখনো রয়েছে এবং নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এ পরিষদে অবাধে আসছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুল্লাহ রুবাইয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা সাহেব উল্লাহ বলেন, তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো লিখিত চিঠি বা রেজুলেশন তিনি পাননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তাঁকে কোনো আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। শুধু নাগরিক সেবা ও ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।

সাহেব উল্লাহ বলেন, ‘আমি ২০১১ সাল থেকে ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ২০১০ সাল থেকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নই। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য কাউকে এক টাকাও দিইনি। অর্থের বিনিময়ে দায়িত্ব পাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামাল আহমেদ, প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ ও সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নিলুফা বেগম এবং সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরজাহান বলেন, ‘গত মাসের সভায় চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুল্লাহ অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটি চাইলে আমরা সবাই সম্মতি জানাই।’

লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, ‘পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছুটির আবেদন করেছেন। তাঁর আবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ছুটিকালীন সময়ে প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করবেন।’

চেয়ারম্যানের বিদেশ যাওয়ার প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, ‘আবেদন করে তিনি বিদেশ যেতে পারেন। আদালত থেকে তাঁকে বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে—এ ধরনের কোনো আদেশ আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি।

চেয়ারম্যানের ছুটির সময়ে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে লিখিত আদেশ বা পরিষদ সভার রেজুলেশন না থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের ছুটিকালীন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা ও নিয়মিত কার্যক্রম সচল রাখতেই প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply