

পুলিশি তদন্তে নথি জাল প্রমাণের দাবি, চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনার দাবি
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ভুয়া ওয়ারেন্ট ও জাল কাগজপত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। আদালত ও প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এক সাংবাদিক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘মওদুদ’ নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের বৈধ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভুয়া মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পরে এসব কাগজপত্রের মাধ্যমে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় দৈনিক বাংলা নিউজ অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং মানবাধিকার খবরের বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় এবং জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসির নির্দেশে থানার সেকেন্ড অফিসার (অপারেশন) ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগটি তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের বালাম বহি ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, যাচাই-বাছাইয়ে ‘মওদুদ’ নাম ব্যবহার করে উপস্থাপন করা মামলার কাগজপত্র ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সঙ্গে আদালতের মূল নথির মিল পাওয়া যায়নি। এসব নথি জাল ও ভুয়া বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অভিযোগকারী আরও জানান, একই ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এমন একটি ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করা হলেও পরবর্তীতে আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তার। সর্বশেষ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা এবং তাদের মধ্যে অন্তত তিনজনকে শনাক্ত করার দাবি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন সাধারণ নাগরিক, সাংবাদিক কিংবা কোনো পেশাজীবীর কাছে যদি ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা আদালতের জাল নথি উপস্থাপন করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল ও নকল নথি চিহ্নিত করা কঠিন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু ভুক্তভোগীকে হয়রানি করে না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, ঘটনার পরপরই পরিচিত কয়েকজনের আকস্মিক আনাগোনা তাকে বিষয়টি নিয়ে আরও সন্দিহান করেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে তারা পরবর্তীতে আরও গুরুতর অপরাধ, মামলা-হামলা কিংবা প্রাণনাশের চেষ্টা করতে পারে।
এ ঘটনায় কুমিল্লা জজ কোর্টে সিআর মামলা নং-৬২৫/২৬, তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২৬ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির মূলহোতাসহ জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। জাল নথি তৈরির সঙ্গে কারা জড়িত, কীভাবে এসব নথি তৈরি ও ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে, ভুয়া ওয়ারেন্ট বা সন্দেহজনক কোনো সরকারি নথি নিয়ে কেউ যোগাযোগ করলে সরাসরি থানায় গিয়ে যাচাই করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
