লাকসাম রেলওয়ে ক্লাব মাঠে মাসব্যাপী মেলা, ক্ষুব্ধ ক্রীড়াপ্রেমী ও শিক্ষার্থীরা

উপজেলা প্রসাশন থেকে দেওয়া হয়নি মেলার অনুমতি

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসাম জংশন রেলওয়ে ক্লাব মাঠে মাসব্যাপী মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ‘গ্রামীণ পণ্য মেলা’র নামে এ আয়োজনের কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠজুড়ে স্টল, রাইড ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

ইতোমধ্যে মাঠে মেলার স্টল ও বিভিন্ন রাইড স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, এক মাস ধরে মেলা চললে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের সমাগম ও যানবাহনের চাপ বাড়বে। এতে লাকসাম জংশন এলাকায় যানজটের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাও রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে মেলা চললে আশপাশের স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, নারী ও তরুণীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে মাঠের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভবিষ্যতে খেলাধুলার উপযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

মেলা আয়োজক রুবেল বিনোদন পার্কের পরিচালক রুবেল হোসেন জানান, মেলায় মোট ৯৫টি স্টল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্টলে শিশুদের খেলনা, কসমেটিকস, সিরামিকস, তৈলাসামগ্রী, হস্তশিল্প, ঘর সাজানোর সামগ্রী, ক্রোকারিজ ও খাবারসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হবে। পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য নৌকা, দোলনা, নাগরদোলাসহ বিভিন্ন রাইড রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আয়োজকের দাবি, লাকসাম জংশন রেলওয়ে ক্লাব মাঠ ব্যবহারের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩০ দিনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মেলার অনুমোদনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মেলার জন্য তারা কোনো অনুমোদন দেয়নি।

লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, আমার কাছে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছিল। আমি কোনো অনুমোদন দিইনি। আমি এটা দিতে পারি না। মেলার অনুমোদন দেন জেলা প্রশাসক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার আগেই মাঠে স্টল ও রাইড স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে। এ বিষয়ে আয়োজকের কাছে জানতে চাওয়া হলেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

এদিকে মেলার অনুমোদনের শর্ত হিসেবে মাঠের পাশে অবস্থিত লাকসাম রেলওয়ে আইডিয়াল একাডেমি স্কুল কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র নেওয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষককে পাশ কাটিয়ে একজন সহকারী শিক্ষকের কাছ থেকে প্রত্যয়ন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

লাকসাম রেলওয়ে আইডিয়াল একাডেমির প্রধান শিক্ষক ফরিদা বেগম বলেন, “মেলার জন্য স্কুলের পক্ষ থেকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে স্কুলের সহকারী শিক্ষক লোকমান হোসেন কীভাবে মাঠ ব্যবহারের প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, সে বিষয়টি স্কুল কমিটির সভাপতিকে জানানো হয়েছে।

লাকসাম প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক আফরাতুল করিম রিমু বলেন, “মাঠের দক্ষিণ পাশে আইডিয়াল একাডেমি স্কুল রয়েছে। স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ এলাকার শিশুরা এই মাঠে খেলাধুলা করে। আশপাশে খোলা জায়গা না থাকায় সকাল-বিকেলে মানুষ এখানে হাঁটাহাঁটি ও শরীরচর্চা করেন। মেলার নামে মাঠটি নষ্ট করা হচ্ছে। স্টল ও রাইড স্থাপনের জন্য খুঁটি গেড়ে মাঠ ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের দাবি, বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের জন্য দীর্ঘ সময় একটি খেলার মাঠ ব্যবহার করা হলে এর স্বাভাবিক পরিবেশ ও মাঠের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই মেলার আয়োজনের আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, মাঠের ব্যবহার এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply